দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় গুরুতর আহত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামকে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৫ মে) গভীর রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। হামলার ভয়াবহ দৃশ্য হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, একদল লোক চিকিৎসককে কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে কিল-ঘুষি ও লাঠিপেটা করছে। একপর্যায়ে তাকে হাসপাতালের বাইরে নিয়েও মারধর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এরপর চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ তুলে রাত ১টার দিকে রোগীর স্বজন ও বহিরাগতসহ ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ইমারজেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে ঢুকে তার মাথায় পাথর ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করে।
চিকিৎসককে রক্ষা করতে গেলে হাসপাতালের অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ (৫৮), আনসার গার্ড কমান্ডার এপিসি আব্বাস আলী (৪৬), আনসার সদস্য সোহেল সরদার (২৫), কামরুল (৩০), আজিজুল হক (২৬) ও কাউসার (২৮) আহত হন। তারা বর্তমানে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত চিকিৎসকের বড় ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাই ৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে মাত্র তিন মাস আগে চিকিৎসাসেবায় যোগ দিয়েছে। ও সব সময় মানুষের সেবা করার কথা জানিয়েছে। মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে কেউ ভুল বুঝে যদি এমন হামলা চালায় এটি ন্যক্কারজনক। তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। একজন চিকিৎসক যদি হাসপাতালে নিরাপদ না থাকেন, তাহলে তারা কীভাবে চিকিৎসা সেবা দেবেন? আমরা এই ঘটনায় দোষীদের বিচার চাই।’
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিতু আক্তার বলেন, ‘আমাকে ওই চিকিৎসক জানান— একজন রোগী মারা যাওয়ার পর উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আমি বিষয়টি দ্রুত পুলিশ ও ইউএনও ম্যামকে জানাই। আমি এসে দেখি আমাদের চিকিৎসক নাসির ইসলামকে গুরুতরভাবে মাথায় আঘাত করে আহত করা হয়েছে। শতাধিক লোক এই হামলায় জড়িত ছিল। ইতোমধ্যে আমাদের আহত চিকিৎসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।’
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, ‘চিকিৎসকরা রোগীদের বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। তাকেই হত্যাকারী অপবাদ দিয়ে তার ওপর ন্যক্কারজনকভাবে হামলা চালিয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করছি। গতকাল রাতে ঘটনাস্থল থেকে ঘটনার উস্কানিদাতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
এদিকে ঘটনার পর হাসপাতালে ছুটে এসে আহত চিকিৎসকের খোঁজখবর নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম। তিনি বলেন, ‘দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এখানে যেই ঘটনা ঘটেছে তার সুষ্ঠু বিচার আমরা চাই।’
/অ